আমাদের সরকারের পলিসি একদম ক্লিয়ার। নো কিট, নো করোনা। নো টেস্ট, নো করোনা

করোনাভাইরাস আতংকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, ডিপ্লোম্যাট, দূতাবাস কর্মকর্তা এবং বিদেশি নাগরিকরা পরিবার নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। এনিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা গত কদিন ধরেই বাংলাদেশ সরকারের সাথে দেন-দরবার করে আসছিলেন। অবশেষে আজ থেকে বিশেষ বিমানে বাংলাদেশ ছাড়তে শুরু করেছেন বিদেশিরা।

প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক। সরকারী হিসাব মতে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। মৃত্যুহারও অনেক কম। এমনকি যারা বাংলাদেশ থেকে পালাচ্ছেন, তাদের দেশের অবস্থা বাংলাদেশের তুলনায় অত্যন্ত ভয়াবহ। অথচ তারপরও কেন বিদেশিরা বাংলাদেশের মত এতটা ‘কম আক্রান্ত দেশ’ ছেড়ে নিজেদের মারাত্মক আক্রান্ত দেশে কোন দুঃখে পালিয়ে যাচ্ছেন?

কারন বিশ্ব দেখছে, বাংলাদেশের সরকারী হিসাবে মৃতের সংখ্যা থমকে আছে। দুদিন আগেও মিরপুরে যে ব্যক্তি মারা গিয়েছেন করোনায়, সেই ব্যক্তির পাশের বাসায় আরও একজন গতকাল মারা গিয়েছেন। তারপরও সরকারী হিসাব থমকে আছে। গতকাল সিলেটে লন্ডন ফেরত একজন নারী করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে থাকাবস্থায় মারা গিয়েছেন। গতকাল খুলনায় ভারত ফেরত দুইজন ব্যক্তিও মারা গিয়েছেন। তাদের দুইজনের মাঝেই করোনা আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ ছিল। কিন্তু যেহেতু তাদের করোনার টেস্ট করা হয়নি, সরকারী হিসাবও তাই থমকেই আছে।

এদিকে কিশোরগঞ্জে ইতালি ফেরত একজন প্রবাসী আজ সকালে মারা গিয়েছেন। তার শরীরে করোনা আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ ছিল কিনা, সরকার এখনও পর্যন্ত তা জানাতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবেই সরকারী হিসাবও তাই থমকে আছে।

আমাদের সরকারের পলিসি একদম ক্লিয়ার। নো কিট, নো করোনা। নো টেস্ট, নো করোনা। নো পেসেন্ট, নো করোনা। যে পলিসি করে ইরান সরকার তার দেশের সর্বনাশ করেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে গোটা বিশ্ব থেকে। অথচ আমরাও সেই লুকানোর পলিসি দিয়েই সবকিছু ম্যানেজ করতে চলেছি! উল্টা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সরকারের এই লুকানো পলিসি যাতে কেউ প্রকাশ না করতে পারে তার জন্য আজকে ১৫ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। এসব কর্মকর্তারা দেশের ৩০টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ নজরদারিতে রাখবেন।

 আবার এই লুকানোর পলিসির নাম দিয়েছি গুজব। আসলে সরকার তার নিজের দায়কে অস্বীকার করে সকল দায় জনগণের কাধে চাপিয়ে দেওয়ার কি অদ্ভুত এক পলিসি তৈরি করে নিয়েছে! ৫% ভোটকে ৫০% বানানো। মিডনাইটে বাক্স ভড়ে ভোটের সংখ্যা বাড়িয়ে দেশের জনগণকে বোকা বানানো সম্ভব হলেও, বিদেশিরা এই অংকের ফাঁকি ঠিকই বুঝতে পেরেছে। আর যেখানে তাদের জীবন-মরনের প্রশ্ন, সেখানে প্রান নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যেয়ে তারা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে সরকারী অংকের শুভংকরের ফাঁকিটা দেখিয়ে দিয়ে গেলো। কিন্তু এই অভাগা বাঙালী পালাবে কোথায়?

Related posts

Leave a Comment